Sunday, March 26, 2017

Al arafa Islami bank Rajendrapur bazar outlet

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন ব্যাংকের এজেন্টরা। যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে এজেন্টই হয়ে উঠেছে ব্যাংকের শাখা। সারা দেশের চার হাজারের বেশি পয়েন্টে সেবা দিচ্ছেন বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্টরা। বিভিন্ন জেলার ইউনিয়নে ইউনিয়নে পাওয়া যাচ্ছে সেবা, স্কুলেও বসেছে ব্যাংক। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ভাতাও পাওয়া যাচ্ছে এসব এজেন্ট থেকে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইউনিয়নে সেবা সম্প্রসারণ করছে ব্যাংক এশিয়া ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ১০ ব্যাংক এ সেবা প্রদান করছে। ব্যাংকগুলোর এজেন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৬। এ ছাড়া কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬০১। এজেন্টদের কাছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৬ জন গ্রাহক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৪৯ জন নারী গ্রাহক। এজেন্টদের মাধ্যমে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০৯ কোটি টাকা এসেছে প্রবাস থেকে। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। হিসাব খোলা, টাকা জমা-উত্তোলন, রেমিট্যান্স গ্রহণ, বিল প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে হাটেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের মাসভিত্তিক ভাতা প্রদানে চুক্তি করেছে ব্যাংক এশিয়া। স্কুল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানে ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সাড়ে ৩ হাজার স্কুলে বুথ স্থাপন শুরু করেছে ব্যাংকটি। পোশাককর্মীদের বেতন সহজে পরিশোধে সুইস কন্টাক্টের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের ঋণ সুবিধা দিতে ইউএসএইয়ের সুবিধা দিতে চালু করেছে বিশেষ কার্ড। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা প্রদানের কাজ শুরু করেছে ব্যাংকটি। এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে শুরু থেকে কাজ করছেন আরফান আলী। বর্তমানে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এজেন্ট ব্যাংকিং যে শুধু টাকা জমা ও তোলা না, সে ধারণা পাল্টে দিতে কাজ চলছে। এমন সময় আসবে সব লেনদেন হবে হিসাবের মাধ্যমে। ছোট লেনদেনের জন্য একটা “মাইক্রো ব্যাংক” গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে আমার’। জানা গেছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক হয়েছেন ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৬ জন, হিসাবে জমা রয়েছে ১৮৬ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহক হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার, জমা রয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক হয়েছেন ৩০ হাজার ৫৬৪ জন, জমা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক হয়েছেন ৫ হাজার ৩০৮ জন, মধুমতী ব্যাংকের ১ হাজার ৭৬ জন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২ হাজার ৫০৫ জন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩ হাজার ২৮০ জন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১ হাজার ৬৪১ জন, অগ্রণী ব্যাংকের ১ হাজার ৮৫৬ জন ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ৬৩৩ জন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘আমাদের সাব এজেন্টরাই মূলত ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় আমরা শাখা না বাড়িয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের ইনচার্জ সাখায়াত কবির বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নগুলোতে যাচ্ছি। অন্য সেবার পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের বিলও আমরা জমা নিচ্ছি।’ বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব থাকতে হয়। এ সেবার মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় মুদ্রায় বিতরণ, ছোট অঙ্কের ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং এককালীন জমার কাজও করতে পারছেন। উপযোগ সেবা বিল পরিশোধের পাশাপাশি সরকারের অধীনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ প্রদান করতে পারছেন এজেন্টরা। এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ আবেদন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন এসব এজেন্ট।